পশু-পাখির অভয়ারণ্য এখন রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল

0
73
উখিয়ার বালুখালী পাহাড়-জঙ্গলে পশু পাখিদের অভায়ারণ্য হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত ছিল।আর সেখানে এখন রোহিঙ্গাদের ঘন বসতি।সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোহাম্মদ সাইফুল (১৪) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোর একটি বানর নিয়ে খেলছিল। এটি আসলে খেলা ছিল না। গলায় দড়ি দেওয়া বানরকে টানা হেচড়া করছিল মাত্র। আর ওই বানর চেষ্টা করছিল পালিয়ে বাঁচতে। এই দৃশ্য দেখতে জমা হয়েছিল ১০-১২ জন রোহিঙ্গা শিশু। এটি কোথায় পেয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ সাইফুল বলেন, পার্শবর্তী পাহাড়ে গাছ কাটতে গিয়ে সে বানরটি ধরেছে।
সে আরো জানায়, লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা তার বন্ধু আলী হোসেনের কাছেও একটি বানর আছে। ওই বানরটির একটি পা ভাঙ্গা। কারন বানরটি ধরার সময় গাছ দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। এছাড়া হাকিম পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত দেড় মাস আগে হাতির আক্রমনে মারা যাওয়া বৃদ্ধ নুরুল ইসলামের স্ত্রী কোনভাবেই ভুলতে পারছেননা তার স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর দৃশ্য।
এসব ঘটনার বিষয়ে সচেতন মহল ও পরিবেশবিদরা বলছেন, এর জন্য পশুরা দায়ী নয় দায়ী রোহিঙ্গারা। যারা পশু-পাখির অভয়ারণ্য ধ্বংস করে তাদের বিপদে ফেলেছে। তারা বলছেন, রোহিঙ্গারা শুধু পশু-পাখির চলাচলের পথ বা আবাসস্থল দখল করেনি তারা গাছ কেটে নেড়া করছে পাহাড়। ফলে দিক হারিয়ে ফেলেছে বনের পশু-পাখিরা। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার জীব বৈচিত্র। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রাখাইনদের অত্যাচারে প্রাণ বাঁচাতে গত ২৫ আগষ্ট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখন অবস্থান করছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায়। তারা পশু-পাখির জায়গা দখল আর পাহাড় কেটে ফেলায় মারাত্বক সমস্যায় পড়েছে প্রাণীকুল। তারা পাচ্ছেনা খবার আর আবাসস্থল।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের কারনে ওই এলাকায় এখন আর আগের মত পশু-পাখি দেখা যায়না। আবার অনেক প্রাণীর হাতের নাগালে চলে আসছে পশু-পাখি। এছাড়া অনেক রোহিঙ্গা মারা যাচ্ছে বন্য হাতির আক্রমনে। হাতির আক্রমনে গত ৬ মাসে মারা গেছে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছে অন্ততঃ ২২ জনের বেশি। এছাড়া ভাংচুর করেছে ২ শতাধিক রোহিঙ্গা বসতী। এই অবস্থায় পরিবেশ বিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, পশু-পাখির অভয়ারণ্য থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে ফেলা জরুরী হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির জানান, গত মাসের হিসাব অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের কারনে সাড়ে ৫ হাজার বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। তার মধ্যে সামাজিক বনায়ন রয়েছে ২ হাজার। বাকীগুলি প্রাকৃতিক বন। এভাবে চলতে থাকতে একসময় বনশূণ্য হয়ে যাবে উখিয়া-টেকনাফ।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব জানান, রোহিঙ্গারা বনভূমি উজাড় করে ফেলায় পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। আর এই পরিবেশ ফিরে পেতে চরম বেগ পেতে হবে কক্সবাজারকে। শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, কক্সবাজার এবং বান্দরবানে হাতি চলাচলের জন্য ১২ টি করিডোর রয়েছে। এসব করিডোরের বেশিরভাগ এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্প আর বিভিন্ন এনজিও সংস্থার অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে পশু-পাখির চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া যে হারে বন কাটা হচ্ছে এতে দৈনিক ৪টি ফুটবল মাঠের সমান বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। এটি পরিবেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। তাই জীববৈচিত্র রক্ষায় পশুপাখির আবাসস্থল থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে ফেলার কথা বলছে বিশেষজ্ঞরা।
Share if you like this

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here